"" চিরিরবন্দর রাবার ড্যাম - চিরিরবন্দর.কম

এক নজরে চিরিরবন্দর

বেকিং নিউজঃ

আজ রবিবার চিরিরবন্দর উপজেলা চত্তরে অনিয়ন্ত্রিত ট্রাক্টর চালানো বন্ধের দাবিতে সাধারন ছাত্র জনতার মানব বন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে, সর্বস্তরের জনগনকে এই প্রতিবাদে অংশ নেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে**এক নজরে চিরিরবন্দরঃ খাদ্যসশ্য উৎপাদনে দিনাজপুর জেলার সমৃদ্ধ উপজেলা গুলোর মধ্যে চিরিরবন্দর একটি অন্যতম উপজেলা। ১৯১৪ সালে চিরিরবন্দর থানা গঠিত হয়। বৃটিশ আমলে এ উপজেলাধীন চিরির নদীতে বড় বড় নৌকায় করে সওদাগররা তাদের ব্যবসার মালামাল আনানেয়া করত এবং ব্যবসা করত। ব্যবসার কারনে এখানে একটি বন্দর গড়ে উঠে। নদীর নামানুসারে এ বন্দরটির নাম হয় চিরিরবন্দর। কালক্রমে এ বন্দরের নামানুসারে এ মৌজাটি চিরিরবন্দর নামে পরিচিতি লাভ করে মর্মে জানা যায়। বাংলাদেশের উত্তর জনপদের দিনাজপুর জেলার আওতাধীন চিরিরবন্দর উপজেলা।ঐউপজেলার ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে আছে নিজস্ব স্বকিয়তা ও বৈশিষ্ট্যঃ

Feature 3

চিরিরবন্দর রাবার ড্যাম


 দেখে মনে হতে পারে কোন জলপ্রপাত। প্রায় ১০ফুট উঁচু হাওয়ায় ফুলানো রাবারের বেলুনের উপর দিয়ে প্রচন্ড গর্জন ও তীব্র বেগে আঁছড়ে পড়ছে জলধারা। জলপ্রপাত যারা দেখেনি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ৮নং সাইতাড়া ইউনিয়নের কাঁকড়া নদীতে সেচ কাজে নির্মিত রাবার ড্যামের অবিরাম জলবর্ষণকে তারা জলপ্রপাত মনে করতে পারেন। এ রাবার ড্যাম প্রকল্প শুস্ক নদীর দু’কুলের প্রায় ৭ হাজার কৃষক পরিবারের ৭০ হাজার মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কৃষকদের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি কর্মসংস্থান হয়েছে আরো ১২ হাজার মানুষের। জীব বৈচিত্র্য রা করে এলাকায় এনেছে নান্দনিক সৌন্দর্য্য চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষকদের চাষাবাদের বিষয়টি চিন্তা করে ২০১১ সালে উপজেলার ৮নং সাইতাড়া ইউনিয়নের কাঁকড়া নদীর উপরে দিনাজপুর এলজিইডি ৮কোটি ৪০ ল টাকা ব্যয়ে ১৩০ ফুট দীর্ঘ রাবার ড্যাম নির্মাণ করে।
চিরিরবন্দর কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই রাবার ড্যাম নির্মানের ফলে চিরিরবন্দর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই ও কাঁকড়া নদীর ১১ কিলোমিটার এবং পার্শ্ববর্তী ১৫ কিলোমিটার কয়েকটি নদী শাখা বছরের পুরো সময় পানিতে ভর্তি থাকে। উপজেলার ২৪টি বকের মধ্যে ১২টি বকের ২ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। কুশলপুর খোচনা, পশ্চিম সাইতাড়া, দণি পলাশবাড়ী, উত্তর ভোলানাথপুর, আন্ধারমুহা, অমরপুর, ভিয়াইল, কালীগঞ্জ, তালপুকুর, দুর্গাপুর, ফুলপুর, গুচ্ছগ্রাম, পুনট্টি, গোবিন্দপুর, দোয়াপুর, তুলশীপুর, করনজি, নারায়নপুরসহ প্রায় ৫ হাজার ৫৫০ জন কৃষক ড্যামের পানি তাদের জমিতে সেচ কাজে ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। বাসুদেবপুর গ্রামের গোলাম রব্বানী দণি পলাশবাড়ী গ্রামের হামিদুল হক জানান, এ অঞ্চলের জমি উর্বর হওয়া সত্বেও সেচের অভাবে অনাবাদি ছিল। রাবার ড্যাম নির্মিত হওয়ায় এখন নিয়মিত ৩টি ফসল হচ্ছে। আমন, ইরিবোরো, সরিষাসহ অন্যান্য ফসলের চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। নদী ও খাল থেকে পানি তুলে কৃষকরা অনায়াসে জমিতে সেচ দিচ্ছেন। তারা আরও জানান, আগে এক বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০মন ধান উৎপন্ন হত। রাবার ড্যাম হওয়ায় সেচ সুবিধার কারণে এখন প্রতি বিঘায় ৩৫ থেকে ৪০ মন ধান উৎপন্ন হচ্ছে। অন্যান্য ফসলেরও বাম্পার ফলন হচ্ছে। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে দিন কাটাচ্ছেন।
রাবার ড্যাম প্রকল্প পরিদর্শন করে দেখা গেছে উত্তর থেকে দণি দিকে আবহমান কাঁকড়া নদীর উপরে রাবার ড্যামটি নির্মিত হওয়ায় নদীর উত্তর দিকে যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। কোথাও ২০ ফুট আবার কোথাও ২৫ ফুট পানির গভীরতা দেখে মনে হয় বর্ষাকালের মত নদীতে পানি থৈথৈ করছে। গাঢ় সবুজ রঙ্গের পানিতে ছুটে চলছে ছোট বড় অসংখ্য নৌকা। এসব নৌকা দিয়ে মানুষ ঘাটে ঘাটে পারাপার হচ্ছে এবং মাছ ধরার কাজে ব্যবহার রাবার ড্যামের উপরে একটি ফুট ব্রীজ ও পাশে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সিমেন্ট কংক্রিটের মনোরম ছাতা, বসার বেঞ্চ ও বাংলো টাইপ ঘর নির্মিত হয়েছে। স্থানীয় এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, রাবার ড্যাম প্রকল্প এ এলাকার চিত্র বদলে দিয়েছে। রাবার ড্যামের তীরে গড়ে উঠেছে বাজার এই বাজারে হোটেল, মনিহারী, চিকিৎসালয়, সার, কীটনাশক, জ্বালানীসহ সব ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ প্রায় দেড় শতাধিক দোকান গড়ে উঠেছে। ফলে এলাকার একটি বড় অংশের মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। রাবার ড্যামের উপর ফুট ব্রীজ নির্মিত হওয়ায় ৮নং সাইতাড়া ৫নং আব্দুলপুর ৭নং আউলিয়াপুকুর এলাকার মানুষের মিলন কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে রাবার ড্যাম প্রকল্প। কাকঁড়া নদীতে নিয়মিত নৌকা চলাচলের কারণে নদীর উভয় পাশের মানুষ যাতায়াতে উপকৃত হয়েছেন এবং নদীতে প্রচুর মাছ চাষ হচ্ছে। এলাকার প্রায় দেড় হাজার জেলে পরিবার রাবার ড্যামে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
চিরিরবন্দর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা বিপব কুমার মোহন্ত জানান, প্রতিদিন দর্শনার্থীরা রাবার ড্যাম প্রকল্প পরিদর্শনে আসছেন। এছাড়াও শীত মৌসুমে এখানে অনেক পিকনিক পার্টি এসে থাকে। রাবার ড্যাম প্রকল্প শুধু কৃষকদের ভাগ্যই বদলায়নি ওই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশে বিরাট ভারসাম্য এসেছে এবং জীব বৈচিত্র্য রা পাচ্ছে। নদীর দু’কুলে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছ হওয়ায় গোটা এলাকা পাখির কলকাকুলিতে মুখরিত থাকছে। মানুষের জীবনধারা বদলে দেয়া কাঁকড়া নদীর রাবার ড্যাম প্রকল্প শুস্ক মৌসুমে কৃষকদের আর্শিবাদে পরিনত হয়েছে। এক কথায় এই রাবার ড্যামটি পাল্টে দিয়েছে এলাকার আর্থ-সামাজিক,উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।